শ্রমিকদের জন্য বহু-ভাষী অ্যাপ উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া

0
1308

যেসব শ্রমিকরা সরকারের কাছে সরাসরি তথ্য বা অভিযোগ জানাতে পারতেন না, তারা নিজ পরিচয় সুরক্ষিত রেখে এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন

বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, মালয়েশিয়ায় মোট ৩০ লাখ বিদেশী শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক। বৃহদাকার এই শ্রমখাতের নানামুখী সংকট উত্তরণের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সরকার শ্রমিকদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ স্থাপনের ব্যাপারে জোর দিচ্ছে। আর এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটির সরকার চালু করতে যাচ্ছে বাংলা, নেপালিসহ আরো অনেক ভাষার সমন্বয়ে তৈরি বহু-ভাষী অ্যাপ। 

মালয়েশিয়ার জাতীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামা’র তথ্যমতে, মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় এই নতুন অ্যাপ্লিকেশনটি চালু করতে যাচ্ছে, যেটি সরকার এবং স্থানীয় ও বিদেশী শ্রমিকদের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ রক্ষায় কাজ করবে।

মানব সম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান, অ্যাপ্লিকেশনটি ২০২১ সালের জানুয়ারির ১১ তারিখ থেকে চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এটি শ্রমিকদেরকে তাদের অধিকার খর্ব করে এমন নিয়োগকারীদের সম্পর্কে সরকারের কাছে তথ্য জানানোর একটি পথ তৈরি করবে।’ এম সারভানান গতকাল শনিবার, কুয়ালালামপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সক্সেগ এ বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘কোনো নিয়োগকারী আইনের ৪৪৬ ধারা অনুযায়ী কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত না করলে অথবা স্বাস্থ্যমান পরিচালনা পদ্ধতি (এসওপি) অনুসরণ না করলে যেসব শ্রমিকরা সরকারের কাছে সরাসরি তথ্য বা অভিযোগ জানাতে পারতেন না, তারা নিজ পরিচয় সুরক্ষিত রেখে এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।’

‘স্থানীয় বা বিদেশী নির্বিশেষে প্রত্যেক শ্রমিকদের সঙ্গে আমরা সরাসরি নিজেদেরকে সংযুক্ত করব। সেই সঙ্গে অ্যাপটি অভিযোগ দায়ের করার এবং তথ্য দেওয়ার এমন একটি প্লাটফর্ম, যা সরকারের শ্রম বিভাগকে নিপীড়নের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবে’-মানব সম্পদ মন্ত্রীর মন্তব্য। তার মতে, অ্যাপ্লিকেশনটিতে বহু ভাষা সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে এটি স্থানীয় এবং বিদেশী কর্মীদের জন্য সরকারের কাছে তথ্য সরবরাহের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে । এসময় তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, তার সরকার শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধাকে অবহেলা করে এমন অসাধু নিয়োগকারীদের সঙ্গে কোনো আপোস করবে না।’

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় নিয়োগকর্তাদের তাদের শ্রমিকদের সুস্থতার জন্য আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করতে চায়। এর ফলে মালয়েশিয়া শ্রম শোষণের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সূচকে দেশটির অবস্থান উন্নত করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্প্রতি পোর্ট ক্লাংয়ের একটি কারখানায় সরকারের অভিযান চালানোর আগেই কর্মীদের হোটেলে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি গণমাধ্যমে উঠে আসে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদিও আমাদের কাছে উপযুক্ত প্রমাণ রয়েছে যে, জায়গাটি শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু আমাদের পৌঁছানোর আগেই শ্রমিকদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ায় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘প্রতারণা কোনো সমাধান নয় এবং নিয়োগকারীদের কোনো সহজ উপায় খুঁজে বের করার সুযোগ নেওয়া উচিত নয়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here