সৌদি আরবে শ্রম আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি ঘোষণা করেছে দেশটির পাসপোর্ট অধিদপ্তর (জাওয়াজাত)।
জাওয়াজাত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, কোনো নিয়োগকর্তা তার প্রবাসী কর্মীকে অন্যের জন্য বা স্ব-নিযুক্ত হিসাবে কাজ করার অনুমতি দেয়, তাহলে তাকে হাজতবাস, নির্বাসন বা নিয়োগ থেকে নিষেধাজ্ঞা সহ জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
এক টুইট বার্তায় জাওয়াজাত এর পক্ষ থেকে জানানো হয়- ‘কোনো নিয়োগকর্তা, যে তার কর্মীদের অন্যের জন্য কাজ করতে বা স্ব-নিযুক্ত হয়ে কাজ করার অনুমতি দেয়, সে এই দণ্ডের সাপেক্ষে এক লক্ষ সৌদি রিয়েল পর্যন্ত জরিমানা, প্রবাসী হলে নির্বাসন, ছয় মাস পর্যন্ত সময়ের জন্য কারাদণ্ড বা পাঁচ বছর পর্যন্ত সময়ের জন্য নিয়োগ থেকে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত হবে। জরিমানা এই কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা অনুযায়ী গুণ করা হবে।’
জাওয়াজাত, জনসাধারণকে রিয়াদ এবং মক্কায় ৯১১ এবং রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত অঞ্চলে ৯৯৯ নম্বরে কল করে যারা আবাসিক এবং সীমান্ত সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন করে তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে, রিয়াদের ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উপদেষ্টা এবং আইন বিভাগের অধ্যাপক ডঃ ওসামা ঘানেম আল-ওবায়দি আরব নিউজকে বলেছেন- ‘জাওয়াজাত উল্লিখিত নিয়োগকর্তাদের জন্য যে শাস্তির ব্যবস্থা করেছে, তা একটি সঠিক পদক্ষেপ।’
‘শ্রমবাজারকে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করার সময় এসেছে। দেশে সংগঠিত অপরাধের একটা বড় অংশ বেআইনি বিদেশি কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত হয়। প্রকৃতপক্ষে নিয়োগকর্তা না হয়ে যারা এই ধরনের শ্রমিকদের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয় তাদের শাস্তি দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।’
অধ্যাপক আল-ওবায়দি ব্যাখ্যা করেন যে, বিদেশি কর্মীদের নিজেদের স্বার্থেও আইন মেনে চলা উচিত। কারণ একজন ‘প্রকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য নিয়োগকর্তা’ এর অনুপস্থিতিতে কাজ করলে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে না।
তিনি বলেন, ‘এই নতুন নির্দেশের মাধ্যমে আশা করা যাচ্ছে যে, অনেক নিয়োগকর্তা এবং ব্যবসায়ী তাদের স্পন্সরের অধীনে অপ্রয়োজনীয় শ্রমিকদের অন্য জায়গায় স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই ধরনের শ্রমিকরা শ্রমবাজারে একটি সমস্যা তৈরি করছে, কারণ তাদের বেশিরভাগেরই পর্যাপ্ত কাজ নেই, যার ফলে বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়াও, এই শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই সৌদি শ্রমবাজারের জন্য প্রয়োজনীয় সঠিক দক্ষতা নেই, যা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর জন্য বোঝাস্বরূপ।’
আল-ওবাইদি আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই ধরনের বেআইনি শ্রমের প্রভাব সৌদি অর্থনৈতিক অবকাঠামোকেও দুর্বল করছে। এটি অনিয়ন্ত্রিত শ্রমিকদের, সৌদি এবং বৈধ বিদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিয়ে আসে।
জ্বালানি ও পানির অতিমাত্রায় ব্যবহার এবং আবাসনের উচ্চ চাহিদার কারণে সৌদি অর্থনীতি অনিয়ন্ত্রিত শ্রমেও ভুগছে।
নতুন এই নির্দেশনা এ ধরনের শ্রমিকদের দ্বারা তৈরি সৌদি অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উপর চাপ কমিয়ে, শ্রমবাজারকে ন্যায্য প্রতিযোগিতার দিকে নিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করেন অধ্যাপক আল-ওবাইদি।
সূত্র: আরব নিউজ