গত সাত মাসে কোন দেশের কতজন সাগরপথে ইতালি গেছেন?

0
1004

লাম্পেদুসা দ্বীপ: অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একখণ্ড স্বপ্নভূমি


চলতি বছর সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা বেশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই-এই সাত মাসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ২৯ হাজার ১২২ জন অভিবাসী ইতালিতে প্রবেশ করেছে।

যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। গত বছরের প্রথম সাত মাসে সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেছিল ১৪ হাজার ১৩ জন। গত জুলাইয়ে ৮ হাজার ৫৯০ জন অভিবাসী ও শরণার্থী ইতালির দক্ষিণ অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করেছিল। যা কিনা ২০১৯ ও ২০২০ সালে ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৮৮ ও ৭ হাজার ৬৪ জন।

ছবি: সংগৃহীত

দেখা গেছে, এদের বেশিরভাগই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বহুল আলোচিত দ্বীপ লাম্পেদুসাতে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য দ্বীপগুলোতে জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ বেশি ছিল।

সাগরপথ পেরিয়ে ইতালি ঢুকতে বাংলাদেশিদের অতি-আগ্রহ:

এ বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দেশের নাগরিকরা ইতালিতে অভিবাসনের জন্য সাগরপথকে বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে সর্বপ্রথম স্থান দখল করে আছে তিউনিসিয়া (২৪ শতাংশ)। এরপরই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। অভিবাসনের জন্য ইতালিতে সাাগরপথ দিয়ে বাংলাদেশিদের প্রবেশের হার ১৪ শতাংশ। এরপর যথাক্রমে রয়েছে মিশর (৮ শতাংশ), আইভরি কোস্ট (৮ শতাংশ), গিনি (৫ শতাংশ), ইরিত্রিয়া (৫ শতাংশ), ইরান (৫ শতাংশ), সুদান (৪ শতাংশ), মরোক্কা (৪ শতাংশ), ইরাক (৩ শতাংশ), মালি (৩ শতাংশ), আলজেরিয়া (৩ শতাংশ) ও সিরিয়া (৩ শতাংশ)।


অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় জুলাইয়ে সর্বোচ্চসংখ্যক তিউনিসিয়ান সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। জুলাইয়ে ইতালিতে প্রবেশ করা মোট অভিবাসনপ্রত্যাশীর ৪৭ শতাংশই তিউনিসিয়ার নাগরিক। যা এর আগের মাসে ছিল অর্ধেকেরও কম, ১৭ শতাংশ। গিনির নাগরিকদের আগমণও ছিল উল্লেখ করার মতো। জুলাইয়ে মোট আগত অভিবাসনপ্রত্যাশীর ৫ শতাংশ ছিল এই দেশের নাগরিক। যা জুন মাসে ছিল ২ শতাংশ।

ছবি: সংগৃহীত

কোন দেশ থেকে কতজন যাত্রা করেছেন?


২০২১ সালে যেসব দেশ থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইতালিতে প্রবেশের জন্য সাগরপথ ধরে রওয়ানা দিয়েছিলেন, সেগুলোর ৫২ শতাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীই লিবিয়া থেকে আগত। চলতি বছর লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইতালিতে এসেছেন ১৫ হাজার ৩৪ জন। এরপরের অবস্থানে আছে তিউনিসিয়া। দেশটি থেকে সাগরপথ ধরে ইতালিতে এসেছেন ৪৩ শতাংশ (১৪ হাজার ৬৮৫ জন)। এরপর যথাক্রমে রয়েছে তুরস্ক (৩ হাজার ২৯৫ জন), আলজেরিয়া (৬৫৩ জন), গ্রিস (২৯৩ জন) ও মিশর (২৬৪ জন)।

আগতদের মধ্যে নারী, শিশু ও পুরুষের সংখ্যা কতজন:

ছবি: সংগৃহীত

বয়স ও লিঙ্গের জনসংখ্যার বিচারে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যেসব অভিবাসী ও শরণার্থী সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়েছে তাদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ৭১ শতাংশ ছিল পূর্ণবয়স্ক পুরুষ। নিঃসঙ্গ ও বিচ্ছিন্ন শিশুর সংখ্যা ছিল ১৮ শতাংশ। বয়স্ক নারী ছিল ৮ শতাংশ ও অভিভাবকদের সঙ্গে ছিল ৪ শতাংশ শিশু। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ইতালিতে মোট ২ হাজার ২২৮ জন নারী ইতালির উপকূলে প্রবেশ করেছে। এই নাগরিকদের অধিকাংশই আইভরি কোস্ট, গিনি, তিউনিসিয়া, ক্যামেরন ও ইরাকের। একই সময়ে নিঃসঙ্গ ও বিচ্ছিন্ন শিশুর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ১১২ জন।

অভিবাসীদের লাশের কফিন। ছবি: সংগৃহীত

সব হিসাব কি পাল্টে দেবে বছরের বাকি সময়টুকু?

বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইতালিতে সাগরপথ দিয়ে প্রবেশ করা অভিবাসী ও শরণার্থীর সংখ্যা আগের চেয়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও চলতি মাস অর্থাৎ আগস্টে ইতালির বিভিন্ন অঞ্চল ও উপকূল ঘিরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অকল্পনীয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সর্বশেষ গত শনিবারও দেশটির লাম্পেদুসা দ্বীপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৩৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে।

এর কয়েক দিন আগে উদ্ধার হয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ। সবমিলিয়ে সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের যে চেষ্টা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা চালাচ্ছে এবং ইতালি সরকার যেভাবে তা মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে, তাতে করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখা দেশটির জন্য কতোটা সক্ষম হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here