মিয়ানমার থেকে এক লাখ অভিবাসী শ্রমিক থাইল্যান্ডে ফেরার অপেক্ষায়

0
1018

অভিবাসী ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে আরো প্রায় ১ লাখ অভিবাসী শ্রমিক থাইল্যান্ডে ফিরে আসার জন্য দেশটির সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন।  যদিও তাদের ফেরত আসার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে অভিবাসী শ্রমিকদের একটা বড় অংশ অভিযোগ তুলেছে। গত ১৮ ডিসেম্বর বিশ্ব অভিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সেমিনারটি আয়োজন করেছিল চিয়াং রাইয়ে অবস্থিত মায়ে ফা লুয়াং ইউনিভার্সিটির স্কুল অব স্যোসাল ইনোভেশন।

 সেমিনারে সোশ্যাল ইনোভেশন রিসার্স সেন্টারের একজন বিশেষজ্ঞ সুয়েবসাকুন কিদুকর্ন বলেন, শিশু, বৃদ্ধ ও অনিবন্ধিত শ্রমিকের বাইরে চিয়াং রাইয়ে কমপক্ষে ২৪ হাজার নিবন্ধিত অভিবাসী শ্রমিক রয়েছেন। তিনি আরো জানান, চিয়াং রাইয়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভিবাসী শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি যোগ করেন, যদিও করোনাকালীন বিধিনিষেধের কারণে এইসব অভিবাসীদের এখন সীমান্ত পাড়ি দিতে ঘাম ঝরাতে হচ্ছে। এর ফলে সীমান্তে অনেক শ্রমিক আটকাও পড়েছেন। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড তথা উভয় পক্ষের আটকে থাকা অভিবাসী শ্রমিকদের সহায়তার জন্য সিভিল সেক্টর পদক্ষেপ নিয়েছে।  

মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কি গ্রুপ-এর সম্বনয়ক আদিসর্ন কুদমংকল বলেন, থাইল্যান্ডে ফিরে আসার জন্য যেসব অভিবাসী বাড়িঘর ছেড়ে যাত্রা করেছিল, তাদের প্রবেশের অনুমতি এখন পর্যন্ত দেয়নি সরকার। আদতে এ কারণে বহু অভিবাসী শ্রমিক মিয়ানমার থেকে লুকিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্ররোচিত হচ্ছেন। সবমিলিয়ে করোনা মহামারি মিয়ানমারের পরিস্থিতিকে বেসামাল করে তুলেছে। দেশটিতে অসংখ্য মানুষ বেকার হয়ে ঘুরছে কিন্তু তাদের ভাগ্যে কোনো কাজ জুঁটছে না। সামুট সাখুন, সামুদ্রিক খাবারের জন্য খুবই বিখ্যাত। অসংখ্য অভিবাসী শ্রমিকের বসবাস এখানে। ভাইরাসের প্রকোপের কারণে এখানকার ব্যবসায়েও মারাত্বক ধ্বস নামানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে অভিবাসী শ্রমিকদের শঙ্কাও গাঢ় হচ্ছে ।এত উদ্বেগ স্বত্বেও সামরিক বাহিনি স্বাভাবিক নানা উপায়ে অনিরাপদ অভিবাসন ঠেকাতে সীমান্ত নজরদারি বাড়িয়েছে। ফলে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক-বলেন তিনি।

মিস্টার অ্যাডিসর্ন সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গে মতামত ব্যক্ত করে বলেন, সীমান্তে এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার পরিবর্তে সরকারের উচিৎ হবে তাদেরকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া। তবে তাদের ঢালাও আগমণকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি আরো যোগ করেন, মিয়ানমার থেকে প্রায় ১ লাখ অভিবাসী শ্রমিক থাইল্যান্ডে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এক্ষেত্রে সবাইকে একসঙ্গে প্রবেশ না করিয়ে পর্যায়ক্রমে অনুমতি দিয়ে অভিবাসী শ্রমিকদের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে বলেও পরামর্শ দেন তিনি। এসময় তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অভিবাসী এইসব শ্রমিকদের বেশিরভাগই থাইল্যান্ডের মহামারির হাত থেকে বাঁচতে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আগে এখানেই কাজ করেছেন। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য থাইল্যান্ডের চিকিৎসা পদ্ধতি মোটামুটি ভালোই ছিল। আসলে এটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই ভাইরাসের উৎস কোথা থেকে এসেছে তা খুঁজে দেখা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here