সাড়ে তিন কোটি আফগানের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন

0
972
Afgan human help

জাতিসংঘের বিশ্ব মানবিক প্রতিবেদন ২০২০ অনুযায়ী, ২০২১ সালে ২৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা এবং সুরক্ষার প্রয়োজন হবে। যার মধ্যে আফগানিস্তানে রয়েছে আনুমানিক ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ, যারা মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমানে বিশ্বে প্রতি ৩৩ জনের মধ্যে এক জনের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন । প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করার শুরুর দিকে এই সংখ্যা ছিল ৪৫ জনে একজন। অর্থাৎ সহায়তা প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইতোমধ্যেই কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

চল্লিশ বছরের যুদ্ধ, বারংবার আঘাত হানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং কোভিড-১৯ আফগানিস্তানের মানুষকে বিধ্বস্ত করে দিচ্ছে। এই সংঘাত আফগানদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রার্থীর এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ২০২০ সালের প্রথম ১০ মাসে ২ লাখ ২৮ হাজার মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের শিকার হয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর ২০২০-এ আন্ত-আফগান শান্তি আলোচনা শুরুর পরেও বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা অব্যাহত রয়েছে । ২০২০ সালের প্রথম তিন চতুর্থাংশে বেসামরিক হতাহতের শিকার ৪৪ শতাংশ নারী ও শিশু। স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদানকারী কর্মীরা বিদ্রোহীদের আক্রমণের ভয়ে তটস্থ থাকে। তালেবানের হাতে ক্ষমতাবদল হওয়ার পর থেকে এই আতঙ্ক আরো চরমে উঠেছে।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, কোভিড -১৯ এর ফলে ৫৯ শতাংশ পরিবারের আয় কমেছে। ১৭ শতাংশ পরিবার জরুরি খাদ্য এবং স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা মেটাতে ভয়াবহ ঋণের কবলে পড়েছে। আনুমানিক ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ (যদি সরকারি এবং উন্নয়ন কর্মীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত জরুরি সামাজিক সহায়তা বাদ দেওয়া হয়) মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

২০২১ সালে মোট জনসংখ্যার ৪২ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক এক কোটি ৬৯ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটের বা চরম মাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হবে। এই সংখ্যা বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তাহীন জনসংখ্যার তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ৫ বছরের নিচে প্রায় দুইজন শিশুর একজন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে যাদের জরুরিভাবে মৌলিক চিকিৎসার প্রয়োজন।

মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় প্রায় ১ কোটি শিশুর শিক্ষা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। কোভিড-১৯ এর জন্য যেখানে সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে আফগানিস্তানের গ্রামীন অঞ্চলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ নিরাপদ খাবার পানি, পয়ঃনিষ্কাষণ ও পরিচ্ছন্নতা সেবার বাইরে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here