বাংলাদেশি অভিবাসী তানজিলা জামান। ২০০৮ সালে পড়াশোনার উদ্দেশে বৃটেনে আসার পর যুক্ত হয়েছেন নানারকম ব্যতিক্রমী সব কাজে। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার বই ‘মাইন্ড ইয়োর মাদার টাং’। মাইগ্র্যান্টভয়েস এর পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে লিখেছেন ড্যানিয়েল নেলসন।
তানজিলা জামানের কাছে এত বেশি শক্তি আর উৎসাহ সঞ্চারিত হয়ে আছে এবং আপনি জানতে পেরে অবাক হবেন না যে, তার উচ্চভিলাসিতার মধ্যে একটি হলো বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন অভিবাসীদের অনুপ্রাণিত করা, “যারা তাদের দেশ এবং স্বাগত দেশগুলির প্রতি বিশাল অবদান রেখে চলেছেন।”
এই বছর প্রকাশিত তার বই “মাইন্ড ইয়োর মাদার টাং” নিয়ে তিনি উচ্ছ্ব¡সিত। তিনি মনে করেন, নিজের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তানজিলার মাতৃভূমি বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা বাংলা হলো তার মাতৃভাষা। বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে বাংলা ভাষা একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা থেকে , ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথকে সুদৃঢ় করতে পাকিস্তানের জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রভাষার বিরুদ্ধে পরিচালিত ১৯৪৮ এর ভাষা আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ গুণনীয়ক হিসেবে কাজ করেছিলো।
পরবর্তীতে, ভাষার জন্য বাংলাদেশের অবদানস্বরূপ জাতিসংঘের শিক্ষামূলক, বৈজ্ঞানিক এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) বাংলাকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি দেয়। গত বছর, একুশে ফেব্রুয়ারি, বৃটেনের হাউজ অব লর্ডসের দিনটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তানজিলা অতিথি বক্তা ছিলেন। ‘অভিবাসনের পেছনে যে কারণই হোক না কেনো, নতুন দেশে বসতি স্থাপন করে বেঁচে থাকা এবং সাফল্য অর্জন করা খুব কঠিন’। তানজিলা লিখেছেন,‘সম্ভবত প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রজন্ম তাদের মাতৃভাষা এবং সংস্কৃতি সর্ম্পকে সচেতন। তবে তৃতীয় বা চতুর্থ প্রজন্ম এই বিষয়ে খুব কমই জানে বা বুঝতে পারে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক কিন্তু বাস্তববাদীও বটে!
২০০৮ সালে পড়াশোনার উদ্দেশে বৃটেনে আসার তার নিজের পদক্ষেপের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কিছু পদক্ষেপ নেন। যার মধ্যে পাঁচ বছরের শিক্ষামূলক কার্যক্রম তার সম্প্রদায়ের আগ্রহী সংস্থা ব্যাংক অফ আইডিয়াস (সিআইসি) প্রতিষ্ঠা করেন।
তার লক্ষ্য হলো অভিবাসীরা, বিশেষত মা এবং পিতামাতারা যারা পূর্ব লন্ডনে একটি নতুন জীবন গড়ার লড়াই করে যাচ্ছেন। এই বিষয়ে গ্রন্থাগারও শিশু যত্নকেন্দ্র স্থাপন করেছেন। তিনি পরামর্শদানের জন্য হোম ভিজিটও করেন। তিনি পাঁচ বছরে প্রায় ৫০০ জন ক্লায়েন্টকে সহায়তা দিয়েছেন। তার এমন অনেক ক্লায়েন্ট আছে যারা অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল, তারা তাকে পারশ্রমিক হিসেবে ফুল উপহার দিয়েছে। এটিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
এখন তিনি কৌশল পরিবর্তন করেছেন। পারিশ্রমিকের বদলে কর্পোরেশনগুলোর কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তহবিল সংগ্রহ খুবই সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। তবে তানজিলা নেতিবাচক চিন্তাকে ছুড়ে ফেলে বলেন,‘আমি একজন আশাবাদী ব্যক্তি, একদিন কেউ আমার দরজায় কড়া নাড়বে: ১,০০০ দরজা বন্ধ থাকবে, তারপরও ১,০০১ নম্বরতো রয়েছে।’