মধ্য কিয়েভের ব্যস্ত রাস্তাগুলো ফাঁকা। চারদিকে ভুতুড়ে একটা আবহ। লোকে লোকারণ্য শহরটিতে এয়ার স্ট্রাইকের সাইরেন বাজছে। প্রার্থনালয়ের বাইরে এক বৃদ্ধ নারী সৃষ্টিকর্তার নিকট হাত তুলে প্রার্থনা করছে। যে যেভাবে পারছে কিয়েভ ছাড়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছে।
একদিকে রাশিয়ার সৈন্যরা অগ্রসর হচ্ছে অন্যদিকে বাসিন্দারা ছুটে পালাচ্ছে। যারা সীমানা ছাড়তে পারছে তারা এ যাত্রায় বেঁচে গেছে আর যারা পারেনি, তারা আশ্রয় খুঁজতে মরিয়া। কেউ কেউ বাংকারে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে কেউবা অন্য কোথাও।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ইউক্রেনে চলমান এরকম এক মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয়ের সময় চার তারকা একটি হোটেল তার ব্যবসায়িক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে মানুষ বাঁচানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় রত হয়েছে। মধ্য কিয়েভে অবস্থিত র্যাডিশন ব্লু নামের এ হোটেলটি যুদ্ধে আক্রান্ত বাস্তুচ্যুত মানুষদের রক্ষায় তার দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অত্যন্ত সুসজ্জিত এই তারকা হোটেলটিতে প্রতি রাতে অবস্থানের জন্য ভাড়া গুনতে হয় কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা। সেখানে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে হোটেল কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষদের থাকার জায়গা করে দিয়েছে। আশ্রয় নেয়া বাসিন্দাদের অধিকতর নিরাপত্তার জন্য কাঁচ দিয়ে আচ্ছাদিত তাদের সুসজ্জিত প্রবেশপথটি ভেঙে দিয়ে এর পরিবর্তে মজবুত কাঠ দিয়ে সুরক্ষিত করে দিয়েছে। মূলত এই পথ দিয়ে মানুষেরা হোটেলটির ভ‚গর্ভস্থ গাড়ি পার্কিং এর জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে।
কিয়েভে এখন তিন ডিগ্রি তাপমাত্রা বিরাজ করছে। শীত থেকে বাঁচতে অনেকে গাড়ির মধ্যে অস্থায়ী বিছানা ও টেবিল স্থাপন করে কোনোমতে কম্বল মুড়িয়ে থাকছে। চার তারকা হোটেলটিতে আশ্রয় নেয়া একজন ইউক্রেনীয় তরুণ বলছিলেন, ‘আমি এখানে আশ্রয় নিয়েছি কারণ আমার মনে হয় এই মুহূর্তে এটি কিয়েভের একমাত্র উপযুক্ত জায়গা, যেখানে আপনি পালিয়ে থাকতে পারেন। এছাড়া অন্যান্য সব জায়গা অনিরাপদ।’
সূত্র: ইউরো নিউজ