ওমিক্রন এর বিস্তার ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যেসব দেশ

0
770

যখন বিশ্বের অনেক দেশ তাদের সীমান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করতে শুরু করেছে, ঠিক এমন সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আবারো সীমান্তের দুয়ার বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

গত ২৬ নভেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওমিক্রন নামে করোনার নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের তথ্য প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করেছে অনেক দেশ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরা হলো-

ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ব্রিটেন এবং ইইউ দেশগুলি শুক্রবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন বলেন যে, ‘এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট কি ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে, সে সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটগুলি স্থগিত করতে হবে এবং এই অঞ্চল থেকে ফিরে আসা যাত্রীদের কঠোর পৃথকীকরণের নিয়মগুলিকে সম্মান করা উচিত।’

সৌদি আরব

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (এসপিএ) শুক্রবার জানিয়েছে, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট এর বিস্তার ঠেকাতে দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, লেসোথো এবং এসওয়াতিনি থেকে ফ্লাইট স্থগিত করেছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমিত অঞ্চল থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মার্কিন নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের পরিবারসহ অন্যান্য ঘনিষ্ঠজন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।

আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনায় প্রবেশকারী যাত্রীরা যারা দেশে আসার আগে গত ১৪ দিনের মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের যে কোনও দেশে অবস্থান করেছেন, তাদের অবতরণের সময় বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

এছাড়াও ভ্রমণকারীদের অবশ্যই সম্পূর্ণ ডোজ টিকা দেওয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে এবং প্রস্থানের ৭২ ঘন্টার মধ্যে  পিসিআর পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ ফলাফল পেতে হবে।। আর্জেন্টিনায় পৌঁছে তাদের অবশ্যই অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করাতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ অন্তত ১৪ দিনের জন্য বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, লেসোথো, মালাউই, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, সেশেলস, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ের সমস্ত অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করেছে এবং গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এইসব দেশগুলোতে ভ্রমণকারী বিদেশিদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কিছু ভ্রমণকারীদের জন্য কোয়ারেন্টাইন এখনও অব্যাহত রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক এবং সম্পূর্ণরূপে টিকাপ্রাপ্ত ভিসাধারীরা দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে বিদেশিদের অবশ্যই ১৪ দিন পর্যন্ত হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

ব্রাজিল

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্সিয়াল চিফ অফ স্টাফ সিরো নোগুইরা বলেছেন যে দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, স্বাতিনি, লেসোথো, নামিবিয়া এবং জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তার দেশের বিমান সীমানা এখন বন্ধ রয়েছে।

যদিও শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পূর্বে রাষ্ট্রপতি জাইর বলসোনারো বলেছিলেন যে, তিনি এই জাতীয় সীমান্ত নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করবেন না ।

কানাডা

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জিন-ইভেস ডুকলোস ঘোষণা করেছেন যে ১২ নভেম্বর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, লেসোথো এবং এসওয়াতিনিতে থাকা যে কোনও বিদেশি নাগরিককে কানাডা  প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

কানাডিয়ান নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা যারা এই দেশগুলির মধ্যে একটিতে ভ্রমণ করেছেন তাদের এখনও বাড়িতে আসার অনুমতি দেওয়া হবে, তবে কঠোর নিয়মে মেনে: কানাডাগামী বিমানে উঠতে তাদের অবশ্যই পিসিআর পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ পেতে হবে।

কানাডা পৌঁছানোর পরে অবশ্যই আরেকবার করোনা পরীক্ষা করতে হবে। যতক্ষণ না করোনা পরীক্ষার নেতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়, ততক্ষণ তাদেরকে একটি হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তারপরে আরও ১৪ দিনের জন্য তাদের বাসভবনে কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

চীন

ওমিক্রন আতঙ্কে দেশটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে না, সম্ভবত এই কারণে যে চীন ইতোমধ্যেই কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।দেশটির শীর্ষস্থানীয় শ্বাসতন্ত্র রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সরকারের উপদেষ্টা ঝং নানশান বলেছেন, ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে ‘বড় পদক্ষেপ’ গ্রহণের কোনও পরিকল্পনা নেই চীনের।

হংকং

এদিকে, হংকং ইতোমধ্যেই কঠোর বিধিনিষেধ জোরদার করেছে। গত ২১ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, লেসোথো, মালাউই, মোজাম্বিক, নামিবিয়া এবং জিম্বাবুয়ে সফর করেছে এমন কোনও বিদেশি নাগরিকদের পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে দেশটি।

দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলি থেকে আগত হংকংয়ের যে কোনও বাসিন্দাকে সরকারি কোয়ারেন্টাইন সুবিধায় সাত দিন কাটাতে হবে যেখানে তাদের প্রতিদিনের ভাইরাস পরীক্ষা করা হবে এবং পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মী দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হবে। সাত দিন পরে, তাদের একটি নির্দিষ্ট হোটেলে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইন চালিয়ে যেতে হবে।

ডেনমার্ক

ইতোমধ্যে দেশটিতে ওমিক্রন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ডেনমার্ক তার নাগরিকদের অ্যাঙ্গোলা, মালাউই, দক্ষিণ আফ্রিকা, লেসোথো, এসওয়াতিনি, মোজাম্বিক, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা এবং নামিবিয়ায় ভ্রমণ না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে। গত ১০ দিনে যেদি কেউ এসব দেশ থেকে ডেনমার্কে প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তাদের জন্য ১০ দিনের আইসোলেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ডেনিশ পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডেনমার্কে প্রবেশের ১০ দিনের মধ্যে সাতটি দেশের যে কোনও একটিতে থাকা সমস্ত ভ্রমণকারীকে অবশ্যই করোনা পরীক্ষা করতে হবে এবং প্রবেশের পরে ১০ দিনের জন্য আইসোলেশনে যেতে হবে। দুইবার পিসিআর পরীক্ষায় নেতিবাচক ফলাফল আসার পর ষষ্ট দিনে আইসোলেশন থেকে বের হতে পারবেন তারা।

মিশর

মিশর বলছে যে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা, লেসোথো, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, নামিবিয়া এবং এসওয়াতিনি সহ দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করেছে।

সূত্র: সিএনএন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here