অভিবাসন প্রত্যাশীদের খাদ্য সহায়তা দিলেন পোলিশ মুসলিম নেতা

0
827
পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে,বেলারুশ-পোল্যান্ড সীমান্তে, পোলিশ মুসলিম নেতা
ছবি: এপি

ম্যাকিয়েজ সেজস্নোভিজ যখন প্রথমবার সীমান্তে অভিবাসীদের দেখেছিলেন, তখন তিনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। বেলারুশ-পোল্যান্ড সীমান্তে আটকে পড়া ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত অভিবাসন প্রত্যাশীরা যেন এক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন।

বোহোনিকির পূর্ব পোলিশ গ্রামের স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের জনপ্রতিনিধি সেজস্নোভিজ, সীমান্তে আটকেপড়া অভিবাসীদের দুরাবস্থা অবলোকন করছিলেন। তিনি দেখতে পান, অভিবাসীরা এত ক্লান্ত হয়ে পড়েছে যে তাদের দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি নেই। তারা এত ক্ষুধার্ত যে, মাটি থেকে মাশরুম খুঁজে খুঁজে খেতে শুরু করে এবং তাদেরকে যখন একটি আপেল দেওয়া হয়, তখন তারা বীজসহ খেয়ে ফেলে।

কিন্তু যে অনুভুতিটি তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছিল, তা হল তাদের আর্তনাদ। সেজস্নোভিজ বলেছিলেন, ‘এটি ছিল বাচ্চাদের কান্না এবং চিৎকারের শব্দ, যা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়।’

সেজেস্নোভিজ তাদের জন্য পোশাক সংগ্রহ এবং খাবার তৈরি করতে সাহায্য করেছেন।

ম্যাকিয়েজ সেজস্নোভিজ খাবার বাছাই করছেন। ছবি: এপি

এই সপ্তাহে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী পোল্যান্ডের সীমান্তে উপস্থিত হয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বেলারুশের মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থাকে আরো তীব্র করে তুলেছে।

পোলিশ সীমান্তে সুরক্ষাবাহিনী গড়ে তুলতে সহায়তা করা ছাড়াও সৈন্যদের এবং স্বেচ্ছাসেবী অন্যান্য কর্মীদের খাবার সরবরাহে সাহায্য করছেন সেজস্নোভিজ।

সংবাদ সংস্থা এপি জানায়, শনিবার একটি রেস্তোরাঁয় তিনি এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরা মুরগির মাংস এবং স্যুপ রান্না করছিলেন। তিনি আশা করেন যে, সীমান্তে নিযুক্ত সৈন্য এবং অন্যান্য রক্ষীদের মাধ্যমে অভিবাসীদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে পারবেন।

সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে জরুরী অবস্থার কারণে পোলিশ সীমান্তে চলাচল সীমিত করা হয়। কিন্তু সীমান্তে খাবার সরবরাহের কারণে তিনি সেখানে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন। তখন তিনি কাঁটাতারের বেড়া জুড়ে বেলারুশ প্রান্তে আটকে পড়া মানুষের দুর্ভোগের দৃশ্য অবলোকন করেন।

আরো পড়ুনবেলারুশ-পোল্যান্ড অভিবাসী সংকট: ইউরোপীয় স্বপ্ন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ডলারে! সীমান্তে ‘সশস্ত্র অভিবাসীদের’ ঠেলে দিচ্ছে বেলারুশ: পোল্যান্ডের অভিযোগ শরণার্থী ইস্যু : এখনো ইঁদুর-বিড়াল খেলায় মত্ত লিথুয়ানিয়া-বেলারুশ
 পোল্যান্ডে অভিবাসীদের ঠেকাতে জরুরি অবস্থা জারির পরিকল্পনা

হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী কয়েক মাস ধরে পশ্চিম ইউরোপের দিকে যাওয়ার আশায় বেলারুশ থেকে পোল্যান্ডের পূর্ব সীমান্ত দিয়ে পার হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা এসব মুসলিম অভিবাসীদের আগমন, পোলিশ এবং ইইউ রাজনীতিবিদদের কাছে এখন বড় সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে।

কিন্তু এমন কিছু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গোষ্ঠী রয়েছে যারা কেবল এটিই ভাবছে যে, মানুষ হিসেবে মানুষকে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন এবং তাদের সাহায্য করার উপায় খুঁজছে। চিকিৎসকরা তাদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে জঙ্গলে যাচ্ছেন। এসব অভিবাসন প্রত্যাশীরা প্রায়ই অসুস্থ বা আহত হয়। ইতোমধ্যে, পোল্যান্ডজুড়ে বহু মানুষ জঙ্গলে অবস্থানরত অভিবাসন প্রত্যাশীদের খাদ্য এবং অন্যান্য সহায়তাদানকারী সংস্থাকে অর্থ দান করছে।

অভিবাসীদের সহায়তাকারী বেশিরভাগ স্বেচ্ছাসেবক রোমান ক্যাথলিক। কিন্তু সেজস্নোভিজ, পোল্যান্ডের বোহোনিকির মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান নেতা। বোহোনিকিতে একটি সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় বসবাস করে যারা ৬০০ বছর আগে এই অঞ্চলে বসতি স্থাপনকারী মুসলিম তাতার জনগোষ্ঠী থেকে এসেছে।

যদিও, তিনি বলেছেন যে অভিবাসীদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে তার মুসলিম পরিচয় খুবই গৌণ। তিনি বলেছেন, ‘পোলিশ সীমান্তে যারা প্রবেশ করেছে তাদের প্রত্যেককে আমাদের সাহায্য করা উচিত। হ্যাঁ, প্রত্যেককেই, কারণ তারা মানুষ।’

ইতোমধ্যেই এই অঞ্চলের পরিস্থিতি মারাত্মক হতে শুরু করেছে। শনিবার এক সিরিয়ান যুবকের মৃত্যু সহ, এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে।

সেজস্নোভিজ এই ভেবে ভীত হচ্ছেন যে, ‘এখানে হয়তো আরও মৃত্যু দেখতে হবে।’

সূত্র: এপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here