সৌদি আরবের মানব সম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ‘মুসানেড’ প্লাটফর্ম এর তথ্যমতে, ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) গৃহকর্মীদের মোট নিয়োগ চুক্তি বৃদ্ধিতে রেকর্ড গড়েছে সৌদি আরব। এসময় দেশটিতে গৃহকর্মীদের নিয়োগ চুক্তি বৃদ্ধির হার ছিল ১৫ শতাংশ বেশি। ‘মুসানেড’ এর বরাতে আরো জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর সৌদি আরবে যতগুলো দেশ সবচেয়ে বেশি গৃহকর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি করেছে, সেগুলোর মধ্যে সবার ওপরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
ডিসেম্বরে ১২ হাজারেরও বেশি চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। একই সময়ে ১১ হাজারেরও বেশি চুক্তি করে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থান দখল করেছে যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারত। এছাড়া গেল বছরের নভেম্বর মাসের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফিলিপাইনও বাংলাদেশ যথাক্রমে ১৩ হাজার গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি করে সেই মাসে সবার আগে অবস্থান করছে।
এদিকে চলতি বছর কর্মী নিয়োগে আরো বেশ কয়েকটি নতুন দেশকে যুক্ত করার জন্য ‘মুসানেড’ প্লাটফর্মকে ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। এক্ষেত্রে বিভিন্ন গবেষণা ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে নতুন দেশ থেকে পাঠানো গৃহকর্মীদের নিয়োগ দেবে সৌদি সরকার। সৌদি সরকার মূলত সৌদি আরবের নাগরিকদের পরিবারে গৃহকর্মীদের মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া রয়েছে অপরাধের মাত্রা, ভাষা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রত্যাশিত নিয়োগ ব্যয়, বেতন ও আনুষাঙ্গিক কিছু মানদণ্ড।
মুসানেড এর তথ্য বলছে, গত বছরের চতুর্থ বা শেষ প্রান্তিকে গৃহকর্মীদের নিয়োগ চুক্তিতে যে রেকর্ড হয়েছিল, তার মধ্যে ৬৫ হাজার চুক্তি হয়েছে অক্টোবরে। পরের মাসে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬৯ হাজারে। ডিসেম্বরে এর সর্বোচ্চ উল্লম্ফন ঘটে, বছরের শেষ এ মাসে চুক্তির পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছিল ৭৬ হাজারে। এর ফলে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরপর তিন মাস ধারাবাহিকভাবে গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তির সংখ্যা উর্দ্ধমুখী হলো।
২০২১ সালের নভেম্বর মাসের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশ যথাক্রমে ১৩ হাজার গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি করে সবার আগে অবস্থান করছে। এসময় মিশর ৯ হাজার নিয়োগ চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে অক্টোবরেও ফিলিপাইন ১৩ হাজার নিয়োগ চুক্তি করেছিল। এসময় অবশ্য ১১ হাজারের একটু বেশি নিয়োগ চুক্তি করে বাংলাদেশ এক ধাপ পিছিয়ে ছিল। আর ১০ হাজার চুক্তি করে র্যাংকিংয়ে উগান্ডার অবস্থান ছিল তৃতীয়।
উল্লেখ্য, মুসানেড প্লাটফর্মের লক্ষ্য হলো গৃহকর্মীদের নিয়োগের পদ্ধতিগুলো পরিচালনা করা, স্বয়ংক্রিয়করণ এবং সহজতর করা। এছাড়া এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, সৌদি রিক্রুটমেন্ট অফিস ও জনশক্তি রপ্তানিকারক দেশগুলিতে গৃহকর্মী প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপনের পাশাপাশি ব্যক্তি ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমনভাবে চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পাদন করা, যাতে করে উভয় পক্ষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।