আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা হোম অফিসের অভিবাসন সংক্রান্ত কাজ পরিচালনাকারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে বিদেশে মানুষদের পাঠানোর সময় যৌনকর্মীদের অর্থ প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিস্ফোরক এ দাবি করেছেন পাঁচজন হুইসেলব্লোয়ার। যারা অভিযোগ করেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদাররা যুক্তরাজ্য থেকে বিমানে অভিবাসীদের সঙ্গে যাওয়ার পর ১০ বছর ধরে নিয়মিতভাবে যৌনকর্মীদের রাতভর স্টপওভারে অর্থ প্রদান করে আসছিল।
হুইসেলব্লোয়াররা যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘মিটি’ নামের আউটসোর্সিং ও শক্তি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের অন্তত এক ডজন সহকর্মীর নাম হস্তান্তর করেছে, যারা এক দশকের বেশি সময় ধরে এই ধরনের কাজে লিপ্ত ছিল। কেনিয়ার নাইরোবি, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ, ভিয়েতনামের হ্যানয়, ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো এবং রোমানিয়ার বুখারেস্টসহ বিভিন্ন শহরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ হুইসেলব্লোয়ারদের।
এমন ঘটনা ফাঁস হয়ে যাবার পর হোম অফিসের স্থায়ী সেক্রেটারি ম্যাথিউ রাইক্রফট এ অভিযোগুলো খতিয়ে দেখার জন্য এরই মধ্যে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। অবশ্য তার দাবি, এখন পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগের কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ ঘটনার জেরে করদাতাদের ‘কষ্টে অর্জিত অর্থ’ ‘শিকারী যৌন পর্যটন’ এর কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার জন্য সরকারকে তুলোধুনো করেছে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা।
হোম অফিসের একজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে বলেছিলেন যে, তারা বিদেশি লোকদের নিয়ে যাওয়ার সময় যা দেখেছিল, তাতে তারা হতবাক হয়ে গিয়েছিল। ‘একটি কাজের উদ্দেশ্যে আমরা দুজন বারে বসেছিলাম, এ সময় দলের অন্য তিনজন [যৌনকর্মীদের] সঙ্গে চলে গিয়েছিল’-তারা বলছিলেন। ‘‘ বিশেষত চাকরির জন্য এই যোগাযোগগুলি সাজানোর জন্য তাদের একজনের কাছে একটি ফোন ছিল, যেটিকে সে ‘লিটল ব্ল্যাক বুক’ বলে উল্লেখ করেছিল।’’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে এর উদ্বাস্তু ও অভিবাসী অধিকার পরিচালক স্টিভ ভালদেজ-সাইমন্ডস অভিবাসন কার্য সম্পাদনের জন্য ব্যক্তিগত ঠিকাদারদের ব্যবহারের কারণ খতিয়ে দেখে সমালোচনামূলক পুনর্মূল্যায়ন করার জন্য হোম অফিসকে আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে লেবার ইমিগ্রেশনের মুখপাত্র স্টিফেন কিনক প্রতিবেদনগুলিকে গভীর উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন এবং অভিযোগগুলি তদন্ত করার জন্য হোম অফিসকে আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: গার্ডিয়ান