ইটালির বাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও প্রেরণের লক্ষ্যে মানসম্মত ভাষা শিক্ষা, বিভিন্ন ধরনের কারিগরি বা হাতের কাজের প্রশিক্ষণ এবং বিদেশগমনেচ্ছুদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করছে ইটালার্ন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে প্রথমবারের মতো স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বেসরকারি উদ্যোগে চালু হলো ‘ইটালিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা’ কার্যক্রম। সরকার গৃহীত তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে অভিবাসন ও কনসালটেন্সি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘ইটালার্ন’।
ঢাকা, মাদারীপুর এবং খুলনা অঞ্চলের নির্বাচিত কয়েকটি স্কুল ও কলেজে চলতি মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কোর্স চালু হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এর পরিধি আরো বাড়ানো হবে বলে প্রতিষ্ঠানটি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুরু হওয়া এই কোর্সের আওতায় শুধু ভাষা শিক্ষা নয়, বরং ইটালির সমৃদ্ধ ইতিহাস, শিল্পকলা, জীবনধারা ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানগত পরিধি প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইউরোপের মতো উন্নত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে তাদের পথচলা আরও সুগম হবে।
এ বিষয়ে ইটালার্নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজী রোহিদ আলমগীর বলেন,‘‘শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই বিশ্বমানের দক্ষতায় গড়ে তুলতে আধুনিক ভাষা শিক্ষার বিকল্প নেই। সরকারের শিক্ষা নীতি ও তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসারে বেসরকারি খাতের এই অংশগ্রহণ দেশের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। সরকার গৃহীত এ পরিকল্পনাকে আরো কীভাবে প্রসারিত করা যায়, সেজন্য আমরা আরো বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’’

ইটালার্ন এর চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) সালমা ডলি বলেন, ‘‘একটি ভাষার সঙ্গে যখন তার সংস্কৃতি যুক্ত হয়, তখন শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীরা যদি আন্তর্জাতিক কোনো ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়, তবে তাদের আত্মবিশ্বাস ও বহুমুখী যোগ্যতা অনেকগুন বেড়ে যাবে। আমাদের চেষ্টা থাকবে শিক্ষার্থীদের আরো বেশি দক্ষ করে গড়ে তোলা।’’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বপ্নের দেশ ইটালিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশায় সাগরপথসহ নানা অনিরাপদ উপায়ে লিবিয়া পাড়ি দেওয়ার সময় হাজার হাজার মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটছে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এই অনিরাপদ অভিবাসনকে সম্পূর্ণ নিরুৎসাহিত করতে এবং নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে দক্ষ কর্মী প্রেরণে ইতালি ও বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে অত্যন্ত জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অন্যান্য দেশের তুলনায় ইটালিতে যাওয়ার আগ্রহ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি থাকায়, ক্রমবর্ধমান এই চাহিদাকে ইতিবাচক ও নিরাপদ রূপ দিতে ইটালার্ন নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাতে তরুণ সমাজ প্রয়োজনীয় ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি জ্ঞান অর্জন করে সম্পূর্ণ ঝুঁকিহীনভাবে নিরাপদ উপায়ে ইটালি গিয়ে একটি সচ্ছল, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জীবনের পথ খুঁজে পায়।
আরো পড়ুন: ইউরোপে স্বপ্নের অভিবাসন : মাধ্যম, সুযোগ ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ
ইটালিয়ান ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক তত্বাবধান ও বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ইটালার্ন এর অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট) রুবেল পারভেজ জানান, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও আমরা দারুণ সাড়া পাচ্ছি। এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এবং তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচনে একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।’’
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ইটালার্ন ইটালির বাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে মানসম্মত ভাষা শিক্ষা, বিভিন্ন ধরনের কারিগরি বা হাতের কাজের প্রশিক্ষণ এবং বিদেশগমনেচ্ছুদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। এর বাইরে শিক্ষা ও অভিবাসনের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক কল্যাণ, সংস্কৃতি, কৃষি এবং পরিবেশগত উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বহুমুখী কর্মকাণ্ড সফলভাবে পরিচালনা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দেশের শিক্ষার্থীদের বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষার নতুন অধ্যায় শুরু করলো প্রতিষ্ঠানটি।
